ভারতীয় সংবিধানের ইতিহাস ও মেকিং অফ দ্য কনস্টিটিউশন: 100টি গুরুত্বপূর্ণ একনজরে তথ্য (One-Liners for WBPSC & WBP)

ভারতীয় সংবিধান (Indian Polity) বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (যেমন—WBCS, WBPSC Clerkship, Miscellaneous, WBP Constable, KP SI, SSC) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের রিভিশনের সুবিধার জন্য ভারতীয় সংবিধানের সূচনা, ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন আইন এবং গণপরিষদ (Constituent Assembly) সংক্রান্ত 100টি নির্ভুল ও সহজবোধ্য তথ্য নিচে আলোচনা করা হলো ।

ব্রিটিশ শাসন ও সংবিধানের ঐতিহাসিক পটভূমি (Historical Background) :

  • 1773 সালের রেগুলেটিং অ্যাক্টের মাধ্যমে ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্রিটিশ সরকার প্রথম আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

  • রেগুলেটিং অ্যাক্ট অনুযায়ী ‘বাংলার গভর্নর’ পদটিকে ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল’ পদে উন্নীত করা হয় ।

  • বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হয়েছিলেন লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস (1774-1785)।

  • 1774 সালে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়, যার প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে।

  • 1784 সালের পিটের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ আলাদা করতে ‘বোর্ড অব কন্ট্রোল’ ও ‘বোর্ড অব ডিরেক্টরস’ গঠিত হয়।

  • 1793 সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভারতে বাণিজ্যিক সুবিধা আরও 20 বছরের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

  • 1813 সালের চার্টার অ্যাক্ট দ্বারা ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একচেটিয়া বাণিজ্যের অধিকার অবসান ঘটে।

  • 1813 সালের আইনের মাধ্যমে ভারতে শিক্ষাখাতে প্রতি বছর 1 লাখ টাকা বরাদ্দের ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়।

  • 1833 সালের চার্টার অ্যাক্ট অনুযায়ী ‘বাংলার গভর্নর জেনারেল’ পদটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘ভারতের গভর্নর জেনারেল’।

  • ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (1833-1835)।

  • 1833 সালের আইনের মাধ্যমে ভারতে দাস প্রথার আইনি বিলুপ্তি ঘটানো হয়।

  • 1853 সালের চার্টার অ্যাক্টের মাধ্যমে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ICS) পরীক্ষার সূচনা ঘটে এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়।

  • 1857 সালের মহাবিদ্রোহের পর 1858 সালের ‘গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া অ্যাক্ট’ দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের অধীনে যায়।

  • 1858 সালের আইনের মাধ্যমে ‘গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ শাসন পরিচালনা করতে ‘ভাইসরয়’ পদ সৃষ্টি করা হয়।

  • ভারতের প্রথম ভাইসরয় তথা শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।

  • 1861 সালের ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট অনুযায়ী বিভিন্ন প্রদেশে বিধান পরিষদ গঠনের সুযোগ তৈরি হয়।

  • 1892 সালের অ্যাক্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক পরোক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রাথমিক সূচনা ঘটে।

  • 1909 সালের ‘মর্লে-মিন্টো’  সংস্কার আইন দ্বারা আইন পরিষদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পৃথক ধর্মভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

  • লর্ড মিন্টোকে ভারতে ‘সাম্প্রদায়িক নির্বাচনের জনক’ বলা হয়ে থাকে।

  • 1919 সালের ‘মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার’ আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা (Council of States & Legislative Assembly) চালু করা হয়।

  • 1919 সালের আইনের ভিত্তিতে প্রাদেশিক স্তরে ‘দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা’ (Dyarchy) প্রবর্তিত হয়।

  • 1919 সালের আইন মূল্যায়নের জন্য 1927 সালে স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে ‘সাইমন কমিশন’ গঠিত হয়েছিল।

  • 1935 সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act, 1935) হলো বর্তমান ভারতীয় সংবিধানের বৃহত্তম রচনার উৎস বা মূল ভিত্তি।

  • 1935 সালের আইনের মাধ্যমে কেন্দ্রে ‘দ্বৈত শাসন’ প্রবর্তিত হয় এবং প্রাদেশিক দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটিয়ে ‘প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন’ দেওয়া হয়।

  • 1935 সালের এই আইনের ফলেই দিল্লিতে ফেডারেল কোর্ট (যা পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট) গঠিত হয়।

মেকিং অফ দ্য কনস্টিটিউশন (গণপরিষদ গঠন ও সংবিধান রচনা):

    • 1934 সালে ভারতে প্রথম গণপরিষদ গঠনের ধারণা বা প্রস্তাব দিয়েছিলেন সাম্যবাদী নেতা এম. এন. রায় (M. N. Roy)।

    • 1940 সালের ‘আগস্ট অফার’-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে গণপরিষদ গঠনের দাবি মেনে নেয়।

    • 1946 সালের নভেম্বর মাসে ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার অধীনে ভারতের গণপরিষদ গঠিত হয়।

    • ক্যাবিনেট মিশনের তিন প্রধান সদস্য ছিলেন—লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।

    • গণপরিষদের মোট আসন সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছিল 389টি।

    • 389টি আসনের মধ্যে 296টি ব্রিটিশ ভারতের জন্য এবং 93টি আসন দেশীয় রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ ছিল।

    • 1946 সালের জুলাই-আগস্ট মাসে গণপরিষদের 296টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

    • নির্বাচিত আসনগুলির মধ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস 208টি এবং মুসলিম লীগ 73টি আসনে জয়লাভ করে।

    • গণপরিষদের প্রতীক বা সিল (Seal) হিসেবে ‘হাতি’ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    • 1946 সালের 9ই ডিসেম্বর গণপরিষদের প্রথম ঐতিহাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    • মুসলিম লীগ বর্জন করায় প্রথম সভায় মোট 207 জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

    • ড. সচ্চিদানন্দ সিনহা গণপরিষদের প্রথম অস্থায়ী (Interim) সভাপতি নির্বাচিত হন।

    • কংগ্রেস নেতা আচার্য জে. বি. কৃপালিনী ড. সচ্চিদানন্দ সিনহার নাম প্রস্তাব করেছিলেন।

    • 1946 সালের 11ই ডিসেম্বর ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    • এইচ. সি. মুখার্জি এবং ভি. টি. কৃষ্ণমাচারী গণপরিষদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।

    • স্যার বি. এন. রাও গণপরিষদের আইনি বা সাংবিধানিক উপদেষ্টা (Constitutional Advisor) হিসেবে নিযুক্ত হন।

    • 1946 সালের 13ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ঐতিহাসিক ‘অবজেক্টিভ রেজোলিউশন’ বা উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    • এই অবজেক্টিভ রেজোলিউশনটি 1947 সালের 22শে জানুয়ারি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

    • মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশভাগের পর গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় 299-এ।

    • 1947 সালের 22শে জুলাই গণপরিষদ কর্তৃক ভারতের জাতীয় পতাকা (National Flag) আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

    খসড়া কমিটি ও সংবিধানের মূল কাজ (Drafting Committee & Assembly Work):

    • সংবিধানের খসড়া তৈরির জন্য 1947 সালের 29শে আগস্ট ‘খসড়া কমিটি’ (Drafting Committee) গঠিত হয়।

    • ড্রাফটিং কমিটি বা খসড়া কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ড. বি. আর. আম্বেদকর।

    • খসড়া কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ছিল 7 জন।

    • ড. বি. আর. আম্বেদকরকে ‘ভারতীয় সংবিধানের জনক বা স্থপতি’ (Father of the Indian Constitution) বলা হয়ে থাকে।

    • খসড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন— এন. গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আইয়ার, কে. এম. মুন্সি, সৈয়দ মোহাম্মদ সাইদুল্লাহ, এন. মাধব রাও এবং টি. টি. কৃষ্ণমাচারী।

    • বি. এল. মিত্রের অসুস্থতার কারণে তাঁর স্থানে অন্তর্ভুক্ত হন এন. মাধব রাও।

    • ডি. পি. খৈতানের মৃত্যুর পর (1948) তাঁর স্থানে খসড়া কমিটিতে আসেন টি. টি. কৃষ্ণমাচারী।

    • গণপরিষদে মূল সংবিধান প্রস্তুত করতে মোট সময় লেগেছিল 2 বছর 11 মাস 18 দিন।

    • গণপরিষদের সংবিধানে আলোচনা ও অনুমোদনের জন্য মোট 11টি অধিবেশন বা সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    • 1949 সালের 26শে নভেম্বর ভারতীয় গণপরিষদ কর্তৃক আমাদের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত (Adopted) হয়।

    • সংবিধান গৃহীত হওয়ার দিনে উপস্থিত 284 জন সদস্য এতে সরাসরি স্বাক্ষর করেন।

    • মূল সংবিধানে মোট 395টি ধারা (Articles), 22টি পাঠ বা অধ্যায় (Parts) এবং 8টি তফসিল (Schedules) ছিল।

    • গণপরিষদের সর্বশেষ বা 12তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় 1950 সালের 24শে জানুয়ারি।

    • 1950 সালের 24শে জানুয়ারি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘জন-গণ-মন’ জাতীয় সঙ্গীত এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দে মাতরম্’ জাতীয় স্তোত্র হিসেবে 24শে জানুয়ারি 1950 সালে গৃহীত হয়।

    • 1950 সালের 26শে জানুয়ারি সম্পূর্ণ ভারতীয় সংবিধান সারাদেশে কার্যকর (Enforced) বা বলবৎ করা হয়।

    • 1950 সালের 26শে জানুয়ারির দিনটিকে স্মরণে রেখেই প্রতি বছর ‘প্রজাতন্ত্র দিবস’ (Republic Day) হিসেবে পালন করা হয়।

    • মূল সংবিধানের প্রস্তাবনা ও পৃষ্ঠাগুলির অলঙ্করণ করেছিলেন শান্তিনিকেতনের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু ও তাঁর দল।

    • মূল সংবিধানটি কোনো প্রেসে ছাপা হয়নি; এটি নিজের হাতে ইংরেজি ক্যালিগ্রাফিতে লিখেছিলেন প্রেম বিহারী নারায়ণ রায়জাদা।

    • 1952 সালের মে মাসে ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদ গঠিত হয়।

    কুইক রিভিশন টেবিল: সংবিধান মেকিং-এর গুরুত্বপূর্ণ তারিখ (Quick Revision Table) :

    গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (Event)তারিখ (Date)
    প্রথম মিটিং (First Meeting)9 December 1946
    অবজেক্টিভ রেজোলিউশন পেশ (Objectives Resolution)13 December 1946
    জাতীয় পতাকা গ্রহণ (National Flag Adopted)22 July 1947
    ড্রাফটিং কমিটি গঠন (Drafting Committee Formed)29 August 1947
    সংবিধান গ্রহণ (Constitution Adopted)26 November 1949
    সংবিধান বলবৎ (Constitution Enforced)26 January 1950

    কমিটির তালিকা ও বিভিন্ন সোর্স (Committees & Sources of Indian Constitution) :

      • স্টিয়ারিং কমিটির (Steering Committee) প্রধান ছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।

      • কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সংক্রান্ত কমিটির (Union Powers Committee) সভাপতি ছিলেন জওহরলাল নেহরু।

      • প্রাদেশিক সংবিধান কমিটির (Provincial Constitution Committee) প্রধান ছিলেন সরদার বল্লভভাই প্যাটেল।

      • মৌলিক অধিকার ও সংখ্যালঘু বিষয়ক পরামর্শদাতা কমিটির প্রধান ছিলেন সরদার বল্লভভাই প্যাটেল।

      • মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত সাব-কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন জে. বি. কৃপালিনী।

      • কার্যপ্রণালী নিয়ম সংক্রান্ত কমিটির (Rules of Procedure Committee) প্রধান ছিলেন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।

      • ভারতের সংবিধানের সবচেয়ে বড় উৎস হলো 1935 সালের ভারত শাসন আইন (Government of India Act, 1935)।

      • সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একক নাগরিকত্বের ধারণা নেওয়া হয়েছে ব্রিটেন (UK) থেকে।

      • মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ধারণা গৃহীত হয়েছে আমেরিকা (USA) থেকে।

      • রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতি (Directive Principles of State Policy – DPSP) গৃহীত হয়েছে আয়ারল্যান্ড থেকে।

      • নির্দেশাত্মক নীতির সাথে সাথে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন পদ্ধতিও আয়ারল্যান্ড থেকে সংগৃহীত।

      • ভারতীয় সংবিধানের জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত বিধান নেওয়া হয়েছে জার্মানির ভাইমার সংবিধান থেকে।

      • মৌলিক কর্তব্য (Fundamental Duties) ও পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আদর্শ নেওয়া হয়েছে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) থেকে।

      • কেন্দ্র-রাজ্য যুগ্ম তালিকা (Concurrent List) এবং যৌথ অধিবেশনের ধারণা নেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

      • সংবিধান সংশোধন পদ্ধতি (Amendment of the Constitution) নেওয়া হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।

      • কেন্দ্রের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা ও শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো সংগৃহীত হয়েছে কানাডা থেকে।

      • প্রস্তাবনায় উল্লিখিত স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ নেওয়া হয়েছে ফরাসি বিপ্লব (ফ্রান্স) থেকে।

      • ‘আইন দ্বারা নির্দিষ্ট পদ্ধতি’ (Procedure Established by Law) গৃহীত হয়েছে জাপান থেকে।

      • সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণ পদ্ধতি এসেছে আমেরিকা থেকে।

      • কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজস্ব বন্টনের ক্ষমতাও 1935 সালের আইন দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।

      বর্তমান সংবিধান ও অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Current Status & Facts) :

      • বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানে ধারা (Articles) রয়েছে প্রায় 470টিরও বেশি।

      • বর্তমানে সংবিধানে পাঠ বা অধ্যায় (Parts) রয়েছে মোট 25টি।

      • সংবিধানে মূল 8টি তফসিলের জায়গায় বর্তমানে মোট 12টি তফসিল (Schedules) রয়েছে।

      • সংবিধান সংশোধন করা যায় প্রধানত 3টি ভিন্ন পদ্ধতিতে (সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং রাজ্যগুলির অনুমোদনসহ)।

      • সংবিধানে সংশোধন সংক্রান্ত নিয়ম উল্লেখ রয়েছে 368 নম্বর ধারায় (Part XX)।

      • ভারতের প্রস্তাবনাকে (Preamble) সংবিধানের ‘আত্মা ও চাবিকাঠি’ (Soul and Key) বলা হয়।

      • প্রস্তাবনায় ‘সমাজতান্ত্রিক’, ‘ ধর্মনিরপেক্ষ’ এবং ‘সংহতি’ শব্দ তিনটি 1976 সালের 42তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত হয়।

      • মৌলিক অধিকার বর্তমানে সংবিধানে 6টি রয়েছে (মূল সংবিধানে 7টি ছিল)।

      • 1978 সালের 44তম সংশোধনের মাধ্যমে ‘সম্পত্তির অধিকার’-কে মৌলিক অধিকার থেকে বাদ দিয়ে 300A নম্বর ধারায় আইনি অধিকার করা হয়।

      • বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানে অনুচ্ছেদ 51A-এর অধীনে মোট 11টি মৌলিক কর্তব্য রয়েছে।

      • সংবিধানের 32 নম্বর ধারাকে ড. বি. আর. আম্বেদকর ‘সংবিধানের হৃদয় ও আত্মা’ (Heart and Soul of the Constitution) হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

      • ভারতে যেকোনো নাগরিকের জন্য ভোটাধিকারের বয়স 21 থেকে কমিয়ে 18 বছর করা হয় 1989 সালে (61তম সংশোধনী)।

      • অনুচ্ছেদ 360-এর অধীনে ভারতে আজ পর্যন্ত একবারও জাতীয় আর্থিক জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি।

      • ভারতের সর্বোচ্চ আইনি দলিল হলো ‘ভারতের সংবিধান’।

      • সংবিধান রচনার পর মূল পান্ডুলিপিটি সংসদ ভবনের লাইব্রেরিতে একটি বিশেষ হিলিয়াম গ্যাস ভর্তি কাঁচের বাক্সে সংরক্ষণ করে রাখা আছে।

      এই ব্লগে দেওয়া 100টি তথ্য WBCS, WBPSC Clerkship, Miscellaneous, WBP SI & Constable পরীক্ষার জিকে (General Knowledge) অংশের পলিটি প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত সহায়ক।