প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে মৌর্য সাম্রাজ্য (Mauryan Empire) স্থাপন একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী অধ্যায়। 321 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ধননন্দকে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য যে বিশাল সাম্রাজ্যের সূচনা করেছিলেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশকে এক রাজনৈতিক ঐক্যের সুতোয় বেঁধেছিল।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা যেমন—WBPSC Clerkship, WBCS, WB Police, SSC, Rail ইত্যাদি পরীক্ষার ইতিহাস অংশে মৌর্য সাম্রাজ্য থেকে প্রচুর প্রশ্ন আসে। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য নিচে মৌর্য সাম্রাজ্য, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, বিন্দুসার, মহামতি অশোক, অর্থশাস্ত্র এবং মৌর্য শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত 100টি গুরুত্বপূর্ণ একঝলক তথ্য (One-Liners) দেওয়া হলো।
1. মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা ও চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য :
প্রাচীন ভারতের প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য হিসেবে অভিহিত করা হয় মৌর্য সাম্রাজ্যকে।
আনুমানিক 321 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে নন্দ বংশের শেষ রাজা ধননন্দকে সিংহাসনচ্যুত করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য মৌর্য বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
সিংহাসনে আরোহণের সময় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের বয়স ছিল মাত্র 24 বছর।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় প্রধান রাজনৈতিক পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেন আচার্য চাণক্য বা কৌটিল্য (বিষ্ণুগুপ্ত)।
গ্রিক ঐতিহাসিকরা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘স্যান্ড্রোকোটাস’ (Sandrokottos) বা ‘আন্দ্রোকোটাস’ নামে ডাকতেন।
305 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের মেসিডোনীয় সেনাপতি সেলুকাস নিকেটরের সাথে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের বিখ্যাত যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
যুদ্ধের পর সেলুকাস ও চন্দ্রগুপ্তের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং চন্দ্রগুপ্ত হেলাত, কান্দাহার, কাবুল ও বেলুচিস্তান অঞ্চল লাভ করেন।
চুক্তির বিনিময়ে উপহার হিসেবে সেলুকাসকে 500টি যুদ্ধ-হাতী প্রদান করেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য।
সেলুকাস নিকেটর তাঁর দূত হিসেবে মেগাস্থিনিসকে পাটলিপুত্রে চন্দ্রগুপ্তের রাজসভায় পাঠিয়েছিলেন।
মেগাস্থিনিসের রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থটির নাম ‘ইন্ডিকা’ (Indica)।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র (গঙ্গা ও শোন নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত)।
জৈন গ্রন্থ ‘পরিশিষ্টপার্বণ’ অনুসারে জীবনের শেষভাগে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য জৈন ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে জৈন ধর্মে দীক্ষিত করেছিলেন বিখ্যাত জৈন সন্ন্যাসী ভদ্রবাহু।
জীবনের শেষ সময়ে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কর্ণাটকের শ্রাবণবেলগোলায় চলে যান।
জৈন প্রথা ‘সংলেখনা’ বা অনশন ব্রত পালন করে চন্দ্রগুপ্ত মৃত্যুবরণ করেন।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়েছিল মূলত কাঠ দিয়ে।
গ্রিকদের হাত থেকে ভারত ভূখণ্ড মুক্ত করার জন্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ‘ভারতের মুক্তিদাতা’ বলা হয়।
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধান মহিষীর বা স্ত্রীর নাম ছিল দুর্ধরা।
চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সৌরাষ্ট্রের রাজ্যপাল পুষ্যগুপ্ত বিখ্যাত ‘সুদর্শন হ্রদ’ খনন করেছিলেন।
মৌর্য আমলে সাম্রাজ্য সুরক্ষার জন্য রাজপ্রাসাদের চারপাশে বিশাল কাঠের প্রাচীর ও খাদ খনন করা ছিল।
চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে পাটলিপুত্র শহরের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় 14.80 কিলোমিটার।
মৌর্য আমলে রাজবাড়ির সুরক্ষায় নিয়োজিত ছিল বিশেষ সশস্ত্র নারী দেহরক্ষী বাহিনী।
ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সুবিশাল সাম্রাজ্যের স্থপতি হিসেবে গণ্য করা হয় চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে।
আনুমানিক 297 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের শাসনকালের সমাপ্তি ঘটে।
চন্দ্রগুপ্তের পর মৌর্য সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন তাঁর পুত্র বিন্দুসার।
2. বিন্দুসার ও সম্রাট অশোকের প্রারম্ভিক জীবন :
বিন্দুসারের অন্যতম জনপ্রিয় উপাধি বা খেতাব ছিল ‘অমিত্রাঘাত’ (যার অর্থ শত্রুহননকারী)।
গ্রিক বিবরণীতে বিন্দুসারকে ‘অমিত্রোচেটস’ (Amitrochates) নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিন্দুসারের সময়কালে তক্ষশিলায় বিদ্রোহ দেখা দিলে তা দমন করতে পাঠানো হয়েছিল রাজকুমার অশোককে।
বিন্দুসারের রাজসভায় সিরিয়ার রাজা প্রথম অ্যান্টিওকসের রাজদূত হিসেবে আসেন ডেইমাকস।
মিশরের রাজা দ্বিতীয় টলেমি ফিলাদেলফাসের পক্ষ থেকে বিন্দুসারের দরবারে প্রেরিত দূতের নাম ডিওনিসিয়াস।
বিন্দুসার ধর্মীয় দিক থেকে আজীবিক ধর্মের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন।
বিন্দুসারের আজীবিক গুরু ও ভবিষ্যৎ বক্তার নাম ছিল পিঙ্গল বৎস।
সিংহাসনে বসার আগে সম্রাট অশোক উজ্জয়িনীর ভাইসরয় বা রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
আনুমানিক 273 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বিন্দুসারের মৃত্যুর পর অশোক পাটলিপুত্রের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
অশোকের আনুষ্ঠানিক রাজ্যাভিষেক ঘটেছিল সিংহাসনে বসার প্রায় চার বছর পর, অর্থাৎ 269 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে।
প্রাচীন শ্রীলঙ্কান গ্রন্থ ‘দীপবংশ’ ও ‘মহাবংশ’ অনুযায়ী অশোক সিংহাসন সুনিশ্চিত করতে তাঁর 99 জন ভাইকে হত্যা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
সিংহাসন লাভের লড়াইয়ে অশোকের একমাত্র যে ভাই জীবিত ছিলেন, তাঁর নাম তিস (Tissa)।
ক্রূর ও নিষ্ঠুর আচরণের জন্য রাজত্বের শুরুর দিকে অশোককে ‘চণ্ডাশোক’ বলা হতো।
অশোকের প্রধান বা অগ্রমহিষীর নাম ছিল অসংধিমিত্রা।
অশোকের শিলালেখ বা লেখমালায় যে একমাত্র রানীর নাম পাওয়া যায়, তিনি হলেন কারু বাকী (কৌর্বাকী)।
রানী কারু বাকীর পুত্রের নাম ছিল তিবর।
অশোকের অন্যান্য বিখ্যাত পুত্রদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহেন্দ্র, কুনাল ও জলৌক।
অশোকের বিখ্যাত কন্যার নাম ছিল সংঘমিত্রা এবং চারুমতি।
নেপালের দেবপালকের সাথে অশোক তাঁর কন্যা চারুমতির বিবাহ দিয়েছিলেন।
সম্রাট অশোকের রাজত্বকালের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা ছিল কলিঙ্গ যুদ্ধ।
রাজ্যাভিষেকের 8ম বর্ষে (261 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে) ঐতিহাসিক কলিঙ্গ যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়।
কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহ রক্তপাত ও ধনজনের ক্ষয়ক্ষতি দেখে অশোক গভীর অনুশোচনায় দগ্ধ হন এবং যুদ্ধনীতি ত্যাগ করেন।
কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোক ‘ভেরীঘোষ’ (যুদ্ধের আহ্বান) ত্যাগ করে ‘ধর্মঘোষ’ (ধর্মের পথ) গ্রহণ করেন।
উপগুপ্ত নামক এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর নিকট অশোক বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন।
অশোকের রাজত্বকালে পাটলিপুত্রে তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতি (Third Buddhist Council) আয়োজিত হয়েছিল।
3. অশোকের ধম্ম, শিলালেখ ও মৌর্য স্থাপত্য :
তৃতীয় বৌদ্ধ সংগীতির সভাপতিত্ব করেছিলেন বিখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত মোগ্গলিপুত্ত তিস্ ।
বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য অশোক বিশেষ একশ্রেণীর সরকারি কর্মচারী নিয়োগ করেন, যাদের ‘ধর্মমহামাত্র’ বলা হতো।
বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে অশোক পুত্র মহেন্দ্র ও কন্যা সংঘমিত্রাকে শ্রীলঙ্কায় (সিংহলে) পাঠিয়েছিলেন।
কহলনের ‘রাজতরঙ্গিণী’ গ্রন্থ অনুসারে সম্রাট অশোক কাশ্মীরে ‘শ্রীনগর’ শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
প্রাকৃত ভাষায় অশোকের বেশিরভাগ শিলালেখে তাঁকে ‘দেবানংপ্রিয় প্রিয়দর্শী’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
অশোকের শিলালেখে সরাসরি ‘অশোক’ নামটি পাওয়া গেছে মাস্কি, গুর্জরা, নিতুর ও উদয়গোলম শিলালেখে।
1750 খ্রিষ্টাব্দে টিফেনথেলার প্রথম অশোকের শিলালেখ আবিষ্কার করেন।
1837 খ্রিষ্টাব্দে এশিয়াটিক সোসাইটির পণ্ডিত জেমস প্রিন্সেপ প্রথম অশোকের ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার করেন।
অশোকের অধিকাংশ শিলালেখ ব্রাহ্মী লিপি এবং প্রাকৃত ভাষায় লিখিত।
ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে প্রাপ্ত শিলালেখগুলি খরোষ্ঠী লিপিতে লেখা (যা ডানদিক থেকে বামদিকে লেখা হতো)।
কান্দাহারে প্রাপ্ত অশোকের অনুশাসনটি গ্রিক ও অ্যারামাইক (Aramaic) দ্বিভাষিক লিপিতে খোদাই করা।
অশোকের শিলালেখগুলিকে মূলত তিনভাগে ভাগ করা যায়—শিলারূপ বা শিলালেখ, স্তম্ভলেখ এবং গুহালেখ।
অশোকের প্রধান বা বড় শিলালেখের (Major Rock Edicts) সংখ্যা হলো 14টি (যা 8টি বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে)।
কলিঙ্গ যুদ্ধের করুণ বিবরণ পাওয়া যায় অশোকের 13 নম্বর প্রধান শিলালেখে (13th Major Rock Edict)।
অশোকের 1ম শিলালেখে পশুবলি নিষিদ্ধকরণ এবং পশু উৎসব বন্ধের কথা বলা হয়েছে।
2য় শিলালেখে মানুষ ও পশুদের জন্য চিকিৎসালয় স্থাপন ও দাতব্য কাজের কথা উল্লেখ আছে।
অশোকের সর্বকনিষ্ঠ বা ক্ষুদ্রতম স্তম্ভলেখটি হলো রুম্মিনদেই (Rummindei) স্তম্ভলেখ (যা লুম্বিনীতে অবস্থিত)।
রুম্মিনদেই স্তম্ভলেখ থেকে জানা যায় যে, বুদ্ধের জন্মস্থানে অশোক রাজস্ব বা করের পরিমাণ কমিয়ে 1/8 অংশ করেছিলেন।
অশোকের বিখ্যাত সিংহ চতুর্মুখ স্তূপ বা স্তম্ভটি সারনাথে অবস্থিত, যা বর্তমানে ভারতের জাতীয় প্রতীক।
সারনাথের অশোক স্তম্ভের নিচে খোদাই করা সত্য বাক্যটি হলো ‘সত্যমেব জয়তে’ (যা মুণ্ডক উপনিষদ থেকে গৃহীত)।
সারনাথ স্তম্ভের চক্রে মোট 24টি স্পোক বা অরি রয়েছে।
সম্রাট অশোক বিহারের গয়ার নিকটে আজীবিক সন্ন্যাসীদের বসবাসের জন্য বারাবর পাহাড়ে কৃত্রিম গুহা নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।
প্রাচীন ভারতের কাঠ ও ইটের স্থাপত্য শৈলী থেকে পাথরের স্থাপত্যের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় মৌর্য আমলে।
সাঁচির বিখ্যাত বৌদ্ধ স্তূপটি মধ্যপ্রদেশে সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন।
অশোকের পর মৌর্য সাম্রাজ্য দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে—পশ্চিম ও পূর্ব মৌর্য সাম্রাজ্য।
মৌর্য প্রশাসন, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা :
মৌর্য বংশের শাসনকাল ছিল অত্যন্ত কেন্দ্রীকৃত রাজতান্ত্রিক (Centralized Monarchy)।
মৌর্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন স্বয়ং রাজা বা সম্রাট।
রাজাকে প্রশাসনিক কাজে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি ‘মন্ত্রী পরিষদ’ থাকতো।
কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ অনুযায়ী রাজ্য পরিচালনার জন্য 7টি মূল অঙ্গ প্রয়োজন, যাকে ‘সপ্তাঙ্গ তত্ত্ব’ (Saptanga Theory) বলা হয়।
সপ্তাঙ্গ তত্ত্বের অঙ্গগুলি হলো—স্বামী (রাজা), আমাত্য (মন্ত্রী), জনপদ (ভূখণ্ড ও প্রজা), দুর্গ, কোশ (কোষাগার), বল (সেনাবাহিনী) ও মিত্র।
মৌর্য আমলে শীর্ষস্থানীয় উচ্চপদস্থ আমলা বা কর্মকর্তাদের বলা হতো ‘তীর্থ’ (Tirthas)। অর্থশাস্ত্রে 18জন তীর্থের উল্লেখ আছে।
রাজস্ব বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হতো ‘সমাহর্তা’ (Samaharta)।
সরকারি কোষাগার ও সঞ্চয়াগারের প্রধান অধিকর্তাকে বলা হতো ‘সংবিধাতা’ (Sannidhata)।
মৌর্য সাম্রাজ্য পাঁচটি প্রধান প্রদেশে বিভক্ত ছিল—উত্তরাপথ (তক্ষশিলা), অবন্তীর রাষ্ট্র (উজ্জয়িনী), কলিঙ্গ (তোষালী), দক্ষিণাপথ (সুবর্ণগিরি) এবং প্রাচ্য (পাটলিপুত্র)।
প্রদেশের শাসনকর্তা হিসেবে সাধারণত রাজপরিবারের রক্তসম্পর্কিত রাজকুমারদের নিয়োগ করা হতো, যাদের ‘কুমার’ বা ‘ আর্যপুত্র’বলা হতো।
জেলার বা প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধানকে বলা হতো ‘প্রদেষ্টা’ বা ‘স্থানিক’।
মৌর্য প্রশাসনের সর্বনিম্ন একক ছিল ‘গ্রাম’, এবং গ্রামের প্রধানকে বলা হতো ‘গ্রামিক’।
10টি গ্রামের তদারককারী কর্মকর্তাকে বলা হতো ‘গোফ’ (Gopa)।
গুপ্তচর বিভাগ মৌর্য প্রশাসনে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। গুপ্তচরদের বলা হতো ‘গুঢ়পুরুষ’ (Gudhapurusha)।
এক স্থানে স্থায়ী হয়ে কাজ করা গুপ্তচরকে ‘সংস্থা’ এবং ঘুরে ঘুরে কাজ করা গুপ্তচরকে ‘সঞ্চারা’ বলা হতো।
মেগাস্থিনিসের বিবরণ অনুযায়ী পাটলিপুত্র শহরের পৌর প্রশাসন 30 জন সদস্যের একটি কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত হতো (যা 6টি কমিটিতে বিভক্ত ছিল)।
কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে দুই ধরণের আদালতের উল্লেখ পাওয়া যায়—‘ধর্মীয়’ (দেওয়ানি আদালত) এবং ‘কণ্টকশোধন’ (ফোলজদারি আদালত)।
মৌর্য আমলের প্রধান রৌপ্য মুদ্রার নাম ছিল ‘পণ’ (Pana)।
মেগাস্থিনিস তাঁর ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থে ভারতীয় সমাজকে 7টি শ্রেণীতে বা জাতিতে বিভক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
মেগাস্থিনিসের মতে ভারতের 7টি শ্রেণী ছিল—দার্শনিক, কৃষক, পশুপালক, কারিগর, যোদ্ধা, পরিদর্শক এবং শাসক/কাউন্সিলর।
মেগাস্থিনিস উল্লেখ করেছিলেন যে ভারতে কোনো দাসপ্রথা ছিল না (যদিও কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে 9 প্রকার দাসের উল্লেখ আছে)।
মৌর্য আমলে ভূমির মালিকানার ওপর ভিত্তি করে রাজ্যের জমিকে ‘সীতা’ (রাজকীয় জমি) বলা হতো এবং এই জমির তদারককারীকে ‘সীতাধ্যক্ষ’ বলা হতো।
সাধারণত কৃষকদের কাছ থেকে উৎপাদিত ফসলের 1/6 অংশ (ষষ্ঠাংশ) কর হিসেবে আদায় করা হতো।
মৌর্য সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট ছিলেন বৃহদ্রথ (Brihadratha)।
185 খ্রিষ্টপূর্বাব্দে বৃহদ্রথের সেনাপতি পুষ্যমিত্র শুঙ্গ সম্রাট বৃহদ্রথকে হত্যা করে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটান এবং নতুন শুঙ্গ বংশের (Shunga Dynasty) প্রতিষ্ঠা করেন।
মৌর্য সাম্রাজ্যের ইতিহাস ভারতের প্রাচীন সভ্যতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য থেকে শুরু করে সম্রাট অশোকের জনকল্যাণকর শাসনকাজের এই 100টি তথ্য ভালোভাবে অনুশীলন করলে WBPSC Clerkship সহ যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ইতিহাস অংশের বহু প্রশ্ন সরাসরি উত্তর করা সম্ভব হবে।
